ঝ প্রায় গোধূলিলগ্নে তার গন্তব্যে পৌঁছে গেল। কিছুক্ষণ আগে একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। আকাশে তখনো অল্প অল্প মেঘ, বাতাস স্বাভাবিকের তুলনায় শীতল। শরীরে জড়ানো ছেঁড়াখোঁড়া ভারী পোশাকটা আরও ভালোভাবে টেনে নেয় সে। এই গহীন অরণ্য আর পাহাড় অসম্ভব নিঃশব্দ। পাখি আর ঝিঁঝিঁর একটানা ডাক সেই নৈঃশব্দ্যকে যেন আরও ভয়ঙ্কর করে তোলে। একটানা কয়েকদিন হেঁটে সে বড়ো ক্লান্ত। শ্যাওলাধরা বিশাল একটা পাথরে ধপ করে বসে পড়ে সে, বুকভরে শ্বাস নেয়, চামড়ার পাত্রের তলানিতে থাকা পানিটুকু দিয়ে গলা ভেজায়, তারপর দ্বিধান্বিত হয়ে তাকিয়ে থাকে রহস্যাবৃত অন্ধকার গুহাটির দিকে।

পাথুরে পাহাড় আর ঘন বনাঞ্চল পেরিয়ে আসতে হয়েছে ইঝকে। তার যাত্রা শুরু হয়েছে বেশ কয়েকদিন আগে। এতটা পথ সে একা কখনও ভ্রমণ করেনি, এরকম দুর্গম পথে তো নয়ই। হয়তো কখনও ভাবেওনি এরকম কিছু করে ফেলবে সে—অতটা সাহসী সে কোনোকালেই ছিল না—কিন্তু মানবজীবনের মতো দুর্জ্ঞেয় কিছুই নেই। লালদেবতার পাহাড়চূড়ার দিকে তাকিয়ে সে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। পাহাড়টা মোটেও কাছেপিঠে নয়—উত্তরের খরস্রোতা চওড়া নদীটা পেরিয়ে যে-বন আছে, গাঁয়ের পুরুষরা প্রতিবছর শীতের সময়ে যেখানে দলবেঁধে বাইসন শিকারে যায়, সেখান থেকে উত্তরদিকে আরও অন্তত সাতদিন হাঁটলে তবে সেই পাহাড়ের কাছাকাছি যাওয়া যায়। ওদিকে আরও কিছু লোকবসতি আছে, এদেরই জ্ঞাতিভাই সব। বিশাল বনাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রতিটি গোত্রই জানে যে লালদেবতার পাহাড়ই তাদের রক্ষাকর্তা। গহীন বনে যখনই কেউ পথ হারায়, লালদেবতার পাহাড় তাদের পথ দেখায়; কারণ যেদিকেই যাও না কেন, ওই পাহাড়ের নাক-উঁচু চূড়া ঠিকই চোখে পড়বে।

পরিবারের সর্বশেষ সদস্যটির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে ইঝ আজকের মতোই লালদেবতার পাহাড়চূড়ার দিকে তাকিয়ে ছিল দীর্ঘসময় ধরে। কবেকার কথা সেটা? গতমাসের? তার আগের মাসের? স্মৃতি ঠিকঠাক কাজ করতে চায় না। ছোটো বোনটা মারা যাওয়ার পর থেকে দিনতারিখের হিসেব রাখা ছেড়ে দিয়েছে সে। সবশেষে মারা গেল ইঝের তিনমাসের শিশুসন্তান। তখন অবশ্য সে আর তেমন শোকাগ্রস্ত ছিল না, বরং কিছুটা স্বস্তিবোধই হচ্ছিল হয়তো—কারণ ইঝের স্ত্রী লিভ মারা গেছে তার দিনদুয়েক আগে। মাতৃহারা দুগ্ধপোষ্য শিশুকে একার চেষ্টায় বাঁচানো কিংবা বড়ো করার মতো জ্ঞান বা দক্ষতা ইঝের ছিল না। শিশুটি মরে গিয়ে বেঁচে গেছে এবং তাকেও বাঁচিয়ে দিয়ে গেছে।

সন্তানের মৃত্যুর পরদিন সকালে ইঝের মনে হলো, এবারের ভয়ানক মড়ক থেকে সে হয়তো ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছে, কিন্তু তার জীবনের সব উদ্দেশ্যও ফুরিয়ে গেছে। এতটা সৌভাগ্যবান হওয়ার কি খুব দরকার ছিল? এই অবসাদগ্রস্ত দীর্ঘজীবন সে একা একা কী করে বইবে? বিকেল হতে হতে অবশ্য সমস্ত অবসাদ পরিণত হয় নিষ্ফল ক্ষোভে। অনুভূতির এই দ্রুতলয়ের পরিবর্তন নিয়ে সে নিজেই বিপাকে পড়ে যায়। কখনো প্রচণ্ড রাগে সবকিছু ভেঙে ফেলতে ইচ্ছে করে, কখনো হাউমাউ করে কাঁদতে মন চায়, আবার কখনো ঈশ্বরকে খুঁজে বের করে পাকড়াও করার মতো পাগলামি চিন্তাও মাথায় ভর করে। নশ্বর মানুষকে কি ঈশ্বর জীবদ্দশায় দেখা দেন? অবশ্য দেখা দিলেই বা কী! ঈশ্বরকে সে কী বলবে? জানে না সে। হয়তো এটাই জিজ্ঞেস করবে—একে একে তার পরিবারের তেরোজনকে মেরে করে কেবল তাকেই বাঁচিয়ে রাখার এই নির্মম পরিহাসের কারণ কী? কিন্তু ঈশ্বরকে কীভাবে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে ইঝের জানা নেই। লোকে বলে অনেক সাধনায় ঈশ্বরের অসীম অস্তিত্বের সামান্য অংশের সন্ধান জীবদ্দশাতেও পাওয়া যায়—তবে সবাই পায় না, কেবল গুটিকয়েক পায়। ওরকম আধ্যাত্মিক স্তরে পৌঁছতেও ওইসব সৌভাগ্যবান মানুষের সম্পূর্ণ জীবন লেগে যায়। এই প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু করতে হবে, সেটি অবশ্য সে জানে না। পরিশ্রমী যুবক ইঝ শিকার আর কাঠ কাটার কাজেই গত ত্রিশবছর কাটিয়ে ফেলেছে—ঈশ্বরকে নিয়ে ভাবার প্রয়োজন পড়েনি তার।

ক্ষুব্ধ আর দিগভ্রান্ত ইঝের হঠাৎ মনে পড়ে যায় অনেকদিন আগে গ্রামের সবচেয়ে বড়ো পরবের সময়ে গোত্রপ্রধান ব্রিয়ভের বাবা বুড়ো জ্রাভের বলা একটা অদ্ভুত গল্পের কথা। সে বলেছিল, জগতের অনেকগুলো স্তর, যার ভেতরে পৃথিবীর অবস্থান সবার নিচের স্তরে। দেখাশোনা করার সুবিধার্থে প্রত্যেক স্তরেই ঈশ্বরের কিছু প্রতিনিধি আছেন যাঁরা আধ্যাত্মিকভাবে সরাসরি ঈশ্বরের সঙ্গে সংযুক্ত এবং প্রচণ্ড অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। অর্থাৎ পৃথিবীতেও এরকম প্রতিনিধি রয়েছেন। বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে তাঁদের সবসময় আলাদা করা সম্ভব হয় না, কারণ তাঁরা আর দশজন লোকের মতোই দেখতে। তাঁরা অবশ্য লোকালয়ে থাকেনও না, কারণ তাঁরা সামাজিক জীবনযাপন করেন না এবং অন্যদের ওপরে তেমন নির্ভরশীলও নন। সাধারণত আত্মগোপনে থাকতেই ভালোবাসেন, তবে প্রয়োজনবোধে মনুষ্যসমাজে যাতায়াত করেন। লালদেবতার পাহাড়ের সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তেমনই একজন প্রতিনিধি থাকেন দক্ষিণ দিকের বড়ো পাহাড়গুলোর একটার গুহায়।

‘তুমি কীভাবে জানলে? তুমি গিয়েছিলে সেখানে?’ পিরি সাগ্রহে জিজ্ঞেস করেছিল। ইঝের খুব কাছের বন্ধু স্লরের বাবা সে। বাপ-ছেলে দুজনই এখন চুপচাপ শুয়ে আছে বড়ো কালো পাথরটার পাশে। মড়ক দুজনকেই খেয়েছে গতমাসে।

‘দূর বোকা, আমি যাইনি। জানিসই তো, ওদিকে কোনো মানুষ থাকে না, আর এদিক থেকেও কেউ কখনো যায় না। ওদিকের জলাবন আর জঙ্গলগুলো পাজি কুমির আর চিতাবাঘে ভরা। তবে অনেককাল আগে আমাদের এক ঊর্ধ্বতন পুরুষ তাঁর দেখা পেয়েছিলেন। উনিও অবশ্য উত্তরদিকের জঙ্গলেই বাইসন শিকারে গিয়েছিলেন দলবল নিয়ে—কিন্তু একটা সময় কীভাবে যেন দলছুট হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন। তারপর আন্দাজে খুঁজতে খুঁজতে একবারে দক্ষিণের দিকের বনে চলে যান—তাও এমন একটা অংশে, যেখান থেকে লালদেবতার পাহাড়ও দেখা যায় না। ভাবতে পারিস? কিন্তু তিনি ছিলেন পুণ্যাত্মা, আর এরকম একজন ভালো মানুষকে রক্ষা করা তো ঈশ্বরেরই দায়িত্ব। প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন ঈশ্বরের ওই প্রতিনিধি—হাঁসের সুস্বাদু ঝলসানো মাংস আর মিষ্টিজল খেতে দেন, তারপর একটা নির্দিষ্ট পথ ধরে এগোতে বলেন। একদিন আর একরাত টানা হাঁটার পর উনি নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পেরেছিলেন।’

পিরির কৌতূহলের শেষ ছিল না—‘তাহলে কি ওদিকের পাহাড়গুলোয় খুঁজলে আমরাও দেখা পাবো ঈশ্বরের প্রতিনিধির?’

বুড়ো জ্রাভ আকর্ণ হেসে বলেছিল, ‘হ্যাঁরে, তুই যাবি সেই গুহায়? শুনেছি বাইসন শিকারের ঋতুতে উত্তরের জঙ্গলের একটু গভীরে গেলেই তোর হাত-পা কাঁপে! আর তুই যাবি দক্ষিণে! হাহাহা!’

পিরি গোমড়ামুখে বলেছিল, ‘জেনে রাখতে ক্ষতি কী?’

বুড়ো জ্রাভ পিরির অকিঞ্চিৎকর সাহস নিয়ে আরও কিছুক্ষণ মশকরা করলেও গুহাটা খুঁজে পাওয়ার কিছু চিহ্ন বলে দিয়েছিল। ইঝ তখন অনেক ছোটো, সবকিছু ভালোভাবে স্মরণে নেই, তবে চিহ্নগুলোর কথা এখনও মনে আছে।

কিছুদিন পর সামান্য সুস্থির হয়ে ইঝ যখন সবকিছু গুছিয়ে দক্ষিণদিকে রওনা দিচ্ছিল, তখন তার চেহারায় এক অসম্ভব প্রশান্তি খেলা করছিল। গ্রামের জনসংখ্যা বিশভাগের প্রায় একভাগে নেমে এসেছে। যারা বেঁচে আছে তাদেরও অনেকেই হয় সদ্য সেরে উঠেছে, নয়তো শুশ্রূষার ক্লান্তিতে নুইয়ে পড়েছে। দিনের বেলাতেও পুরো গাঁয়ে তাই শ্মশানের নীরবতা। ইঝকে কেউ বিদায় জানাল না, কেউ জানতেও চাইল না সে কোথায় যাচ্ছে। সব কৌতূহল যেন মরে গেছে সবার; যমে-মানুষে চলতে থাকা যুদ্ধ শেষে সবাই বড়ো পরিশ্রান্ত।

যাত্রা শুরুর পর দীর্ঘ মাসাধিকাল ধরে ইঝকে একটানা হাঁটতে হয়েছে এমন সব পথ ধরে, যেখানে হয়তো কোনোকালেই কোনো মনুষ্যসন্তানের পা পড়েনি। কখনো সে হেঁটেছে বুকসমান পানিতে নিমজ্জিত জলাবনের ভেতর দিয়ে, গায়ের পাশ দিয়ে সরসর করে চলে গেছে বিষধর সাপ। যাত্রাপথে ইঁদুর-খরগোশ-সাপ-ব্যাঙ-লতাপাতা-পোকামাকড় সবকিছুই হয়ে উঠেছিল তার খাদ্যবস্তু। বর্ষণ, হিম, ক্ষুধা, অনিদ্রা, ক্লান্তি, জখম, মশা, জোঁক কোনোকিছুই তাকে পরাস্ত করতে সমর্থ হয়নি, বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য করতেও পারেনি—কারণ সে ততদিনে অনেকটাই অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রতিকূল ও শ্বাপদসঙ্কুল এই নিঃসঙ্গ যাত্রায় হঠাৎ মরে যাওয়াটা মোটেও অকল্পনীয় ছিল না—বরং সেটিই সবচেয়ে স্বাভাবিক হতো—কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ইঝ টানটান বেঁচে রইল। এমনকি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশাল বিশাল দানবাকৃতির পাহাড়গুলো চষে ফেলে কাঙ্ক্ষিত গুহাটাও খুঁজে বের করে ফেলল।

গুহামুখের বামদিকে লম্বা ছুঁচালো পাতার অস্বাভাবিক উঁচু গাছটার দিকে তাকালো সে, যার বয়স হাজার বছরের কম হবে না কিছুতেই। গাছের কাণ্ড এতটাই চওড়া যে তাকে জড়িয়ে ধরতেও অন্তত দশজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের প্রয়োজন। সেই বিশাল অবয়ব বেয়ে উঠে গেছে রঙবেরঙের অজস্র লতা, তাদের এলোমেলো বর্ধিষ্ণু শরীরের আধিক্যে গাছের অনেকটাই ঢাকা পড়েছে। যেটুকু দেখা যায় তা কুচকুচে কালো, শ্যাওলায় পিচ্ছিল হয়ে আছে, আর জায়গায় জায়গায় ফুল হয়ে ফুটে আছে অগুনতি ছত্রাক। সেই মহীরুহের সুউচ্চ শাখাপ্রশাখা অসংখ্য পাখির কলতানে মুখরিত, আর গোড়ার কাছে একটা মদ্দা বাইসনের মতো দেখতে বিশালাকারের একটি বাদামি-ধূসর পাথর, দেখে হঠাৎ মনে হয় যেন কোনো প্রতিভাবান শিল্পী একে অনেক যত্নে কুঁদে কুঁদে বানিয়েছে। গত একপক্ষ ধরে পাগলের মতো এই গাছ আর পাথরই খুঁজে বেরিয়েছে সে। বুড়ো জ্রাভের বলে দেওয়া সেই চিহ্ন, অবশেষে!

ভাঙা শুকনো ডালের মাথায় ইঝ বেঁধে নেয় কাঁধের থলেতে সযত্নে বয়ে আনা একটা কাপড়ের টুকরো। আগে থেকেই কাপড়টায় প্রচুর মোম মাখানো ছিল। পাথরে-পাথর ঘষে তাতে আগুন ধরায় সে। সন্ধ্যাকালের আবছা অন্ধকারের মুখে সেই তীব্র আলোয় তার চোখজোড়া ধাঁধিয়ে যায়। গুহায় ঢুকতে যাওয়ার আগমুহূর্তে মশাল হাতে সে একমুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায়। জনবিরল পাহাড়চূড়ায় এই দৃশ্য যদি কেউ দেখে ফেলত, হয়তো ভাবত দেবালয় থেকে আগুন চুরি করতে আসা প্রমিথিউস!

ঈশ্বর দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। সঙ্গে সঙ্গে গুহার ভেতরে অসংখ্য বাদুড় গুনগুন করে উঠল। দশ হাজার বছর আগে জলাধারের পানি চুঁইয়ে তৈরি হওয়া এই গুহায় একটি আদিম গোষ্ঠী কিছুকাল বসবাস করেছে, পরে তারা অন্যত্র অভিবাসী হয়। তারপর থেকে আর কখনো কোনো মানুষ এখানে পা রাখেনি। ঝাড়েবংশে বেড়েছে কেবল বাদুড়। অনেকদিন আগে ভুল করে এদিকটায় চলে এসে ক্ষুৎপিপাসায় মরতে বসা একজন মানুষকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি আবার মনুষ্যসমাজে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। একটি মিথ সৃষ্টির জন্য তাকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন ছিল। ওই সময়ই ত্রিকালজ্ঞ তিনি আজকের ঘটনাটিও ছকে ফেলেছিলেন। একটু পরে কী ঘটবে, জানেন তা-ও। তবু তাঁর অস্বস্তিবোধ হয়। মনুষ্যসমাজের এত এত দুর্দশার নিমিত্ত হতে আজকাল আর ভালো লাগে না। শুরুতে ভেবেছিলেন—হাতে তেমন কাজটাজ নেই, এদের নিয়ে কিছুটা রগড় করেই দেখা যাক, মজা হবে। কিন্তু এখন বিরক্তি ধরে গেছে। সামনের দিনগুলোয় আরও অনেক মানুষ মরবে—যুদ্ধে, ক্ষুধায়, হতাশায়। এতকিছু সামলানো মোটেই আনন্দদায়ক নয়।

গুহার শখানিক গজ ভেতরে একটা গভীর ফাটল রয়েছে। সেখান থেকে একটি দীর্ঘ কালো অবয়ব সরসর করে এসে জায়গা করে নেয় ঠিক সেখানটায়, যেখানে ইঝ কিছুক্ষণ পর পা রাখবে। ইঝের ভাগ্যরেখায় জ্বলজ্বল করে ওঠে—গুহাভ্যন্তরে সর্পাঘাত। নিজেই লিখেছিলেন। চাইলে এখনও পরিবর্তন করা সম্ভব, কিন্তু তাতে অনেক হিসেবনিকেশ উল্টে যাবে। একজন সর্বস্বান্ত যুবকের জীবনরক্ষার চেয়ে পৃথিবীর ভারসাম্য ঠিক রাখা বেশি জরুরি।

ঈশ্বর প্রতীক্ষা করতে থাকেন। যুবকটির কিছু ব্যাখ্যা প্রাপ্য।

রচনাকাল: আগস্ট ২০২২

Share with others

Leave A Comment

Related reads